বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

সিনেমার কোনো গন্ধও পাচ্ছি না : নূতন

ফারহানা আমিন রত্না, চলচ্চিত্রে তিনি নূতন নামেই পরিচিত। তবে মঞ্চে অভিনয়ের সময়েই নামটি রাখা হয়। ১৯৬৯ সালে মুস্তফা মেহমুদ পরিচালিত ‘নতুন প্রভাত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার বাংলাদেশি চলচ্চিত্র শিল্পে অভিষেক ঘটে। ১৯৯১ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘স্ত্রীর পাওনা’ চলচ্চিত্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। প্রায় তিনশত চলচ্চিত্রে অভিনয় করা নূতন এখন নিজের চলচ্চিত্র জীবনসহ দেশের চলচ্চিত্র নিয়ে কী ভাবছেন, চলচ্চিত্রে ফেরার ইচ্ছা নিয়ে কী ভাবছেন…

কীভাবে এখন আপনার জীবন-যাপন করছেন?

আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তবে এই গড়পড়তা প্রশ্নেরও কি কোনো উত্তর হয়? মানুষের জীবন-যাপন কীভাবে যায়। গড়পড়তা মানুষের জীবন-যাপন যেভাবে যায় সেভাবেই তো যাবে নাকি! বাংলাদেশে সংসারে যেসব নারীরা ঘরে বসে তাদের দিন পার করছেন সেখানে তার সময়জুড়ে কতটুকুই বা কাজ থাকে? কিন্তু একজন শিল্পীর জন্য কি অতটুকু সময় যথেষ্ট? তারপরেও দিন এখন আমার সেভাবেই যাচ্ছে। দিন এভাবেই যাচ্ছে। কারও জন্য তো দিন বসে থাকে না- কোনো না কোনোভাবে চলে যায়।

দেশের সিনেমা নিয়ে কোনো ভাবনা হয় আপনার?

আপনারা নিজেরাই তো দেশের সিনেমা অঙ্গনে ঘোরাফেরা করছেন; দেখছেনও দেশে বছরে কয়টা সিনেমা হচ্ছে। আমরা তো সিনেমার কোনো গন্ধও পাচ্ছি না যে, আমাদের কেউ নেবে কি নেবে না- তাও জানি না। সিনেমা তো হচ্ছে দেখছি। তারপরেও আমরা কেন ডাক পাচ্ছি না- সেটা তো জানি না। সেটা আপনারাই ভালো জানেন। আর এখনকার যারা সিনেমা বানান, তাদেরই তো বলতে পারেন কেন তারা সিনিয়ার আর্টিস্টদের সিনেমায় নিচ্ছে না। কেউ যদি আমাদের না ডাকে তখন তো আমাদের করার কিছু নেই। যারা ইন্ডাস্ট্রিতে এত বছর কাজ করল- তারা কেন নেই; এটা তো আপনারা বলবেন।

আপনার সময়ের অনেক শিল্পীই তো এখন অভিনয় করছেন না?

আপনি দেখবেন যে, সারা বিশ্বে কিন্তু সিনিয়র শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য তাদের বয়স উপযোগী চরিত্র সৃষ্টি করে নাটক বা সিনেমা বানাচ্ছে। আমাদের কেন এটা হয় না। পৃথিবীর কোথাও কি লেখা আছে সিনিয়র হয়ে গেলে তাদের নিয়ে কাজ করা যাবে না। সেটা না করলে আমাদের তো করার কিছু নেই। না করলে তো জোর করে এটা করানো যাবে না। কলকাতায় তো দেখি আমাদের চেয়ে অনেক সিনিয়র আর্টিস্ট তাদেরও কাজে নিচ্ছেন তাদের মতো উপযোগী করে চরিত্র সৃষ্টি করে। একটি সিনেমা সিনিয়র-জুনিয়র মিলিয়ে হলেই বরং সেটা পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অনেকে তো বলেন বাজেটের কারণেও অনেক চরিত্র আনা যাচ্ছে না?

তা তো অবশ্যই। আমাদের তো যুগের সঙ্গেই তাল মিলিয়ে চলতে হবে। সারা বিশ্বে সব কিছুরই দাম বাড়ছে। তো, একজন শিল্পীর দাম বাড়ে নাকি কমে। আমি তো এমন নই যে, ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন এসেছি। তো, আমাদেরও সম্মানি সেভাবেই নির্ধারণ করতে হবে। একজন শিল্পী তো কষ্ট করে, পরিশ্রম করেই তার প্রাপ্যটা চায়। তো, দু’জন শিল্পীকে অনেক বেশি টাকা দেবে আর বাকিদের যৎসামান্য দেবে তা তো হয় না। সিনিয়রদের তো প্রাপ্য সম্মানিটা দিতে হবে।

নতুন নির্মাতাদের কাজে মাল্টি চরিত্র না আসায় কী তাদের সীমাবদ্ধতা আছে?

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই তো সব করতে হবে। নতুনরা তাদের চিন্তাধারা থেকেই ছবি বানাচ্ছেন। তাদের ছবিতে কী লাগবে বা না লাগবে সেটা তাদের চিন্তাধারাতেই করেন। নতুন নির্মাতাদের সঙ্গে সিনিয়র আর্র্টিস্টদের জেনারেশন গ্যাপ থাকতেই পারে। তখন সিনিয়র শিল্পীদের মধ্যে কাকে নিলে ভালো হবে- এভাবে তাদের নলেজে দেয়ার দায়িত্ব কাদের? যারা এই ডিপার্টমেন্ট নিয়ে কাজ করেন তাদেরই তো- নাকি! সেটা যদি না হয় তখন তো তাদের মতো করেই গল্প তৈরি করে সিনেমা বানাবেন। এখন সিনিয়র নির্মাতাদেরও সিনেমা বানাতে দেখছি না। এখন নতুনরা সিনিয়র আর্টিস্টদের নিতে গেলে যদি বাজেটে বাড়ি পড়ে তখন কী করার থাকে। দর্শক তো এখনও আমাদের চায়।

অভিনেত্রী হিসেবে শুরু করেও নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করায় ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়েছে?

আমি সেটা মনে করি না। ‘নতুন প্রভাত’ ছবিতে আমার অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক ঘটেছে। এরপর ‘ওরা ১১ জন’ সিনেমায় অভিনয় করি। এরপর নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করি। এতে যে সম্মানহানি হয় এটা মনে করি না। আমি সব ধরনের চরিত্রেই কাজ করেছি। আমি মনে করি না এতে ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়েছে। আমি সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে পারি, সেটা প্রমাণ করতে পেরেছি। পরে আবারও নায়িকা চরিত্রেও অভিনয় করেছি। কাজেই আমি যে এখনও সিনিয়র শিল্পী হিসেবে অভিনয় করতে পারি সেটা তো নির্মাতাদেরই বুঝতে হবে। তাদের তো সে রকম করেই আমার জন্য চরিত্র সৃষ্টি করতে পারে।

‘ওরা ১১ জন’ সিনেমায় যে অভিনয় করলেন সেটা তো অমর হয়ে থাকবে!

সেই সিনেমাটিই তো আমাকে ততদিন বাঁচিয়ে রাখবে- যতদিন বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে। ওইটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ছবি। ওই ছবির কথা কী আর বলব। ওই সিনেমাটির জন্য অনেকেই বলেছেন আমার সেই অভিনয় দেখে কেঁদেও ফেলেছেন। যত সিনেমাই করি না কেন এই সিনেমাটির জন্যই আমি নূতন।

নতুন সিনেমা নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

খুবই ভালো। আলহামদুলিল্লাহ এখন অনেকগুলো ভালো সিনেমা হয়েছে। আমি যদিও সিনেমা দেখি না তবে মানুষের মুখে শুনি। চলচ্চিত্রের আর্টিস্ট হিসেবে আমিও চাই আবার আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াক। ছবি যদি ভালো মানের হতে থাকে তাহলে আবার দেখবেন নতুন নতুন সিনেমা হলও তৈরি হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com